বাঙালি মা-চাচিদের মুখে একটা কথা আমরা প্রায়ই শুনি— “কুত্তার পেটে ঘি সয় না!” সাধারণত কাউকে কোনো দামী উপহার দিলে সে যদি তার মর্ম না বোঝে বা হজম করতে না পারে, তখনই এই প্রবাদটি দাগা হয়।
কিন্তু বিজ্ঞানের চশমা পরে যদি আমরা কুকুরের প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের দিকে তাকাই, তবে দেখা যাবে প্রবাদটি নেহাত মিথ্যে নয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন ঘি-ভাতের বিলাসিতা আপনার প্রিয় ‘টমি’ বা ‘বাঘা’র জন্য কাল হতে পারে।
কুকুরের পূর্বপুরুষ হলো নেকড়ে। বুনো পরিবেশে নেকড়েরা সাধারণত চর্বিযুক্ত মাংস খেত, কিন্তু রিফাইন করা ঘি তাদের মেনুতে ছিল না। বিবর্তনের ধারায় কুকুরের শরীর প্রোটিন আর অল্প কার্বোহাইড্রেট হজম করতে শিখলেও, অতিরিক্ত চর্বি বা ফ্যাট হজম করার ক্ষমতা তাদের খুব সীমিত।
ঘি হলো বিশুদ্ধ ফ্যাট। যখন একটি কুকুরকে অতিরিক্ত ঘি-ভাত খাওয়ানো হয়, তখন তার অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস সেই ফ্যাট ভাঙার জন্য অতিরিক্ত এনজাইম তৈরি করতে গিয়ে হিমশিম খায়। ফলাফল?
পেটে প্রচণ্ড ব্যথা।
বমি এবং ডায়রিয়া।
গুরুতর ক্ষেত্রে Pancreatitis, যা কুকুরের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
আমাদের এক চামচ ঘি আর কুকুরের জন্য এক চামচ ঘি—দুটো এক নয়। কুকুরের ছোট শরীরে ওইটুকু ঘি বিশাল পরিমাণ ক্যালোরি যোগ করে। নিয়মিত ঘি-ভাত খাওয়ালে আপনার কুকুরটি অচিরেই একটি ‘পশমের ফুটবল’-এ পরিণত হবে, যা তার হাড়ের জয়েন্ট এবং হার্টের জন্য মোটেও সুখকর নয়।
ব্যাপারটা ঠিক তেমনও নয়। আয়ুর্বেদ বা আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে—
অল্প পরিমাণে: খুব সামান্য (এক চিমটি বা কয়েক ফোঁটা) ঘি মাঝেমধ্যে দিলে তা কুকুরের গায়ের লোম উজ্জ্বল করতে সাহায্য করতে পারে।
ব্যতিক্রম: সব কুকুরের হজম ক্ষমতা এক নয়। কোনো কোনো ‘দেশি’ কুকুরের পেট অনেক বেশি শক্তপোক্ত হয়, কিন্তু ল্যাব্রাডর বা গোল্ডেন রিট্রিভারের মতো ‘রাজকীয়’ জাতের কুকুরের পেট বেশ নরম হয়।
সারকথা
গ্রাম্য প্রবাদটি আসলে আক্ষরিক অর্থেই সত্যি। মানুষের জন্য যেটা ‘পুষ্টিকর বিলাসিতা’, কুকুরের জন্য সেটা ‘পেটের গোলমাল’।
প্রো-টিপ: আপনার প্রিয় পোষ্যকে ভালোবাসলে তাকে ঘি-ভাতের বদলে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার দিন। আর প্রবাদটি? ওটা বরং সেই বন্ধুর জন্যই তুলে রাখুন, যাকে দামী ট্রিট দেওয়ার পর সে আপনার বদনাম করে বেড়ায়!
আপনার কি কোনো পোষা কুকুর আছে, যে আপনার পাতের খাবারের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে?
©২০২৬ . [ঢাকা ফ্লাক্স] কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত